দেয়াল

হুমায়ূন আহমেদ
‘ভাদ্র মাসের সন্ধ্যা। আকাশে মেঘ আছে। লালচে রঙের মেঘ। যে মেঘে বৃষ্টি হয় না, তবে দেখায় অপূর্ব। এই গাঢ় লাল, এই হালকা হলুদ, আবার চোখের নিমিষে লালের সঙ্গে খয়েরি মিশে সম্পূর্ণ অন্য রঙ। রঙের খেলা যিনি খেলছেন মনে হয় তিনি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।’ এভাবেই সূচনা ঘটেছে হুমায়ূন আহমেদের চার দশকের বর্ণময় লেখকজীবনের শেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’-এর। ২০১১ সালের মাঝামাঝিতে ‘দেয়াল’ রচনা শুরু করেছিলেন তিনি। সে-সময় উপন্যাসের পাঁচটি পর্ব ধারাবাহিকভাবে ‘অন্যদিন’-এ প্রকাশিত হয়। এরপর বেশ কিছুদিন বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ক্যানসার চিকিৎসা চলাকালে নতুন করে ‘দেয়াল’ রচনায় মনোনিবেশ করেন তিনি, যদিও শেষ পর্যন্ত উপন্যাসটির চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার সুযোগ পান নি। সূচনা-অনুচ্ছেদে আকাশের রঙবদলের খেলায় যে সিদ্ধান্তহীনতার কথা বলা হচ্ছে তা বিশেষ ইঙ্গিতবহ। যে সময়কে উপজীব্য করা হয়েছে ‘দেয়াল’-এ, তা একটি সদ্যস্বাধীন জাতির ভাগ্যাকাশের চরম অনিশ্চয়তার কাল। উপন্যাসের কিছু চরিত্র বাস্তব থেকে নেওয়া, নাম-ধাম সবই বাস্তব, ঘটনা-পরম্পরাও বাস্তবেরই অংশ। লেখক যেহেতু উপন্যাস লিখেছেন, তাই আছে কিছু কাল্পনিক চরিত্র। গল্প আবর্তিত হয়েছে এদের ঘিরেও। নানা ঘটনার ঘনঘটায় ঢাকা পড়ে নি জীবনসৌন্দর্য আর জীবন-সত্যের সন্ধান। ইতিহাসের সত্য আর লেখকের সৃজনী ভাবনা_দুইয়ে মিলে ‘দেয়াল’ পরিণত হয়েছে একটি হৃদয়গ্রাহী উপাখ্যানে।

রবীন্দ্রজীবনের অনুজ্জ্বল অঞ্চল

আব্দুশ শাকুর
রবীন্দ্রনাথকে সত্যরূপে চেনা জানা বোঝার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন তাঁর অনিন্দ্য ভাবমূর্তিটির বিনির্মাণ। তার পরে তাঁর মানবিক দোষত্রুটিগুলোর নির্ভুল মূল্যায়ন করে কিছু নম্বর কাটা গেলে যেতে দেওয়া। যেমন রবীন্দ্র-রক্ষীবাহিনী কর্তৃক রোগান্তরিত করে কোয়ারানটিনে রাখা রবীন্দ্রনাথের সব চেয়ে বেশি নম্বর কাটা যাবে পিতামহ দ্বারকানাথের প্রতি তাঁর অকৃতজ্ঞতাজাত বিতৃষ্ণার জন্য। কেন এই বিস্ময়কর অঁট্রেপ্রেনরটির প্রতি তাঁর সবচেয়ে বেশি দানপুষ্ট পৌত্রটির এমন অন্তহীন অবজ্ঞা? দ্বারকানাথ যথেষ্ট হিন্দু ছিলেন না বলে? আমরা দেখি যথেষ্ট হিন্দু ছিলেন না বরং তাঁর পুত্র ও পৌত্র। দেবেন্দ্রনাথ না-পূর্ণব্রহ্ম, না-পূর্ণহিন্দু। রবীন্দ্রনাথও তাই, শেষের দিকে মানবধর্মের নামে বস্তুত ধর্মহীন। আজ আমরা সমগ্র বিশ্বময় সাফল্যের বরমাল্য গলে উদ্যাপিত যে হিন্দুদের দেখি, তাঁরা সকলে পৌনে দুইশত বৎসর পূর্বের দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতোই আধুনিক হিন্দুজ্জযাঁরা গণেশপূজা করছেন এবং একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতৃত্বও দিচ্ছেন, যাঁরা লক্ষ্মীপূজা করছেন এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যের গভর্নরও নির্বাচিত হচ্ছেন; যাঁরা সরস্বতী পূজা করছেন এবং একই সঙ্গে ‘নাসা’র মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডারও নিযুক্ত হচ্ছেন। এঁরা সকলেই দ্বারকানাথের উত্তরসূরি ‘আধুনিক হিন্দু’জ্জদেবেন্দ্রনাথের বা রবীন্দ্রনাথের কেউ নন। ।

মধ্যাহ্ন অখন্ড

বিংশ শতাব্দীর প্রথম পাঁচ দশকের ঐতিহাসিক পটভূমিতে লিখিত হয়েছে বিশাল ক্যানভাসের এই উপন্যাস, যার কাহিনি অগ্রসর হয়েছে নানা সামাজিক ও ব্যক্তিজৈবনিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন চরিত্রের মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। বিচিত্র মানুষের চরিত্রচিত্রণ, তাদের চিন্তা-চেতনার রূপায়ণ এবং ব্যবহাররীতির লেখচিত্রের মধ্য দিয়ে মধ্যাহ্নে তদানীন্তন সমাজের স্বচ্ছ একটি প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। এই ছবিতে আমরা প্রত্যক্ষ করি গ্রামীণ সাধারণ মানুষের জীবনরীতি যা ধর্ম, রাজনীতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের নিগড়ে সম্পূর্ণরূপে বাধা পড়ে নি। সরল ধর্মভীরুতা, উঠতি ব্যবসায়ীশ্রেণীর শঠতা আর ভবিতব্যের অনিবার্য প্রভাব অঙ্কিত হয়েছে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে।

কালের ধুলোয় লেখা

শামসুর রাহমানের এই আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তাঁর কাব্যসত্তার ভেতর-বাহির। জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলাসা করেছেন স্পষ্টভাবে, ফলে গ্রন্থটি হয়ে উঠেছে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী।

আঠারো শতকের গদ্য : ইতিহাস ও সংকলন

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে বাংলা গদ্যের পদযাত্রা এমন কিংবদন্তী প্রচলিত ছিলো দীর্ঘকাল। এখন দেখা যাচ্ছে আঠারো শতকে গদ্যে সাহিত্য রচিত হয়নি, ঠিকই, কিন্তু গদ্যের ভিত্তি বেশ মজবুত হয়ে উঠেছিলো। এমনকি, একাধিক রীতির গদ্য নির্মিত হয়েছিলো। মোট কথা, আঠারো শতকেই বাংলা গদ্য কাজ চালানোর জন্যে সাবলম্বী হয়ে উঠেছিলো। সেই বাংলা যে কতো ব্যাপকভাবে লিখিত হয়েছিলো, সে সম্পর্কে এখনো অনেকের ধারণা নেই। গোলাম মুরশিদ রচিত এই গ্রন্থ থেকে পাঠকরা সেকালে লেখা বিপুল পরিমাণ গদ্যের এবং তার বৈচিত্র্যের খানিকটা আভাস পাবেন।

সেরা পাঁচ উপন্যাস : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

সমকালীন বিশিষ্ট সাহিত্যস্রষ্টাদের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিকতা, রচনাভঙ্গির নিজস্বতা, বাস্তব-পর্যবেক্ষণ ও মনোবিশ্লেষণের উজ্জ্বলতায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বিশিষ্ট। তাঁর সেই বিশিষ্টতার পরিচয় এই গ্রন্থভুক্ত পাঁচটি উপন্যাস জননী, দিবারাত্রির কাব্য, পুতুল নাচের ইতিকথা, পদ্মানদীর মাঝি ও চতুষ্কোণ-এ আছে। উপন্যাস নির্বাচন ও গ্রন্থটির সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

মার্জিনে মন্তব্য

সৈয়দ শামসুল হক তাঁর এই গ্রন্থটির ভূমিকায় লিখেছেন : লেখা শেখার বই এটি কোনো অর্থেই নয়। বরং একে লেখার কলাকৌশলের দিকে আমাদের চোখ ফেরাবার বই বলা যেতে পারে। আমি কিছু সংকেত ও ভাবনা উপস্থিত করছি। আশা এই, এ থেকে একজন নবীন লেখক উদ্বুদ্ধ হবেন আরও অনেক গভীরে ভাবতে এবং নিজের কলমের দিকে নতুন করে তাকাতে।

হুমায়ুন আহমেদ রচনাবলী ৫

যাদুকর এগিয়ে চলেছেন তাঁর সহজ পদচারনায়, আর তাঁর প্রতিটি পদপাতেই ছড়িয়ে পড়ছে অজস্র ফুলের হাসি। হাঁ, এমনি যাদুকরি মুগ্ধতা ছড়িয়ে হুমায়ুন আহমেদের এগিয়ে চলা । সাহিত্যের প্রতিটি অঙ্গনে তাঁর অবদান বিপুল অভিনন্দনে ধন্য। আর ।এভাবেই গড়ে উঠেছে হুমায়ুন-সাহিত্যের বিশাল সম্ভার। কেবল বাংলাদেশের সীমায়ই রয়, বিদেশেও তার রচনাবলী আগ্রহ সৃষ্টি করতে শুরু করেছে, সমাদৃত হচ্ছে অনুদিত হয়ে। প্রতি বছরই প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর রচনাবলী এক বা একাধিক খন্ড। এই পঞ্চম খন্ডে থাকছে - উপন্যাস, হিমু উপখ্যানমালা, ভ্রমণোপাখ্যান, ।আত্নজৈবনিক, রম্য ও অনুবাদ।

নিবেদন ইতি

এ গ্রন্থে লেখকের আপন কথা, কালের কথা। আপন কথায় স্বভাবতই এসেছে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা; অপর পক্ষে প্রাসঙ্গিক সম্পৃক্ত পটভূমিতে বহমান কালের যাত্রা। এ দু’য়ে মিলিয়ে ‘নিবেদন ইতি’র যত যা কিছু। লক্ষ করা যাবে, বর্ণিত এই কাল পিছিয়েছে কত দূর অতীতে; হারিয়ে যাওয়া, ধূসর হয়ে আসা সেই সব দিনগুলি থেকে, যখন পৌণ্ড্র মহাস্থানে উজ্বল জনপদ, আর পরবর্তী মধ্যযুগে আসছেন পীর মাহি সওয়ার। এবং মহাকালের, যুগান্তরের পালা পেরিয়ে পেরিয়ে উত্তরণ অবশেষ আজকের এই সময়ে।

আইন-শব্দকোষ

গ্রন্থটি সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও আনিসুজ্জামান। এই কোষগ্রন্থে ভুক্তি-শব্দটি ইংরেজিতে দেওয়া হয়েছ্ েএবং ক্ষেত্রমতো তার পদ-পরিচয় দেওয়া হয়েছে। অতঃপর তার এক বা একাধিক বাংলা পরিভাষা এবং ক্ষেত্রমতো সেই পারিভাষিক শব্দের পদ-পরিচয় প্রদত্ত হয়েছে। এরপর সন্নিবেশিত হয়েছে ভুক্তি-শব্দটির ব্যাখ্যা। কিছু কিছু কেক্ষত্রে ব্যাখ্যার সঙ্গে নজিরের উল্লেখ করা হয়েছে।